অন্যদুনিয়াঃ ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

ইতালির ট্রেনটিনো শহরের উত্তরাঞ্চলে বাবা-ছেলেকে আহত করায় একটি বাদামি ভালুককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই ভালুকের প্রাণ বাঁচাতে এখন হাজার-হাজার মানুষ আন্দোলন করছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ফ্যাবিও মিসেরোনি তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে খ্রিশ্চিয়ান মিসেরোনিকে নিয়ে গত সোমবার সকালে হাঁটতে বের হন। মাউন্ট পিলার পথে আসা মাত্র একটি ভালুক তাদের আক্রমণ করে।

ভালুকটি খ্রিশ্চিয়ানের পায়ে কামড় দিলে তার বাবা ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবার ভালুকটি বৃদ্ধ ফ্যাবিওকে কামড়াতে থাকে। তার পা তিন জায়গায় ভেঙে গেছে। এরপর বাবা ছেলে প্রাণপণ চেষ্টা করে ভালুকের হাত থেকে মুক্তি পায়। প্রাণীটি শেষ পর্যন্ত ঝোপের দিকে চলে যায়।

এই ঘটনার পর ট্রেনটিনো গভর্নর মৌরিজিও ফুগাট্টি ভালুকটির মৃত্যুদণ্ডের আদেশে স্বাক্ষর করেন। কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে আহত বাবা-ছেলের কামড়ের জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভালুকটির ডিএনএ শনাক্ত করার। এ জন্য স্থানীয় নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহার করে ওই ভালুকটিকে ধরা হবে।

ইতালির এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরে অনেকেই ভালুকের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ভালুকের মলমুত্র, পশম এবং লালা থেকে স্থানীয় প্রশাসন ডিএনএ ভিত্তিক ডেটাবেইজ তৈরি করে রেখেছে। এতে নির্দিষ্ট ভালুকের অবয়ব বোঝা কর্মকর্তাদের জন্য সহজ হয়।

প্রাণীরক্ষার সংগঠন অ্যানিমালিস্তি ইতালিয়ান এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের কর্মীরা এই ভালুকের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে বলছেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি প্রাণীকে মেরে ফেলা অন্যায়। স্থানীয় সরকারের রায় ঠেকাতে রবিবার পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।

ইতালির পরিবেশমন্ত্রী পর্যন্ত এই ঘটনায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্ত্রী লিখেছেন, ‘শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর দুই ব্যক্তির ঘটনায় ভালুকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারব। আমার মতে এই ঘটনার জন্য কোনোভাবেই প্রাণীটিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায় না।’

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।