বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

ইমানুয়েল ম্যাক্রো তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে পড়েছেন। প্রস্তাবিত পেনশন ব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রেল-বিমান-সড়ক বিভাগের কর্মচারী,শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীরা কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সজুড়ে সবচেয়ে বড় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রেলসেবা ইতোমধ্যে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সংস্থাটির ৮২ শতাংশ চালক ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে। এর ফলে ৯০ শতাংশ আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজধানী প্যারিসে ১৬টির মধ্যে ১১টি মেট্রোলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিন ফ্রান্সজুড়ে পরিবহন বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

শিক্ষকরা ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় অনেক স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু পুলিশ ইউনিয়নও প্রতীকি হিসেবে পুলিশ স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সহিংসতা ও ভাংচুরের আশঙ্কায় প্যারিসের পথে থাকা দোকানপাট বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররাও এ ধর্মঘটে অংশ নেবেন। এরই মধ্যে এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ৩০ শতাংশ এবং সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক রুটের ৩০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে ।

আইনজীবী, ডাকবিভাগের কর্মী, জ্বালানিকর্মীসহ নার্স ও হাসপাতাল কর্মীরাও ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন।

ধর্মঘটের প্রভাবে হাসপাতালের পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে সে চিত্র স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে ধর্মঘট মোকবেলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্সের বর্তমান পেনশন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের স্কিম আছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো সমগ্র ব্যবস্থাপনাটিকে সার্বজনীন একটি পদ্ধতিতে আনতে চাইছেন। তার দাবি, এটি অনেক বেশি ন্যায্য।

নতুন ব্যবস্থাপনায়, কর্মীদের প্রতিদিনের কাজের জন্য পয়েন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পয়েন্ট পরবর্তীতে পেনশন সুবিধায় যোগ হবে। নাবিক থেকে শুরু করে আইনজীবী পর্যন্ত কিছু পেশায় পেনশনের ক্ষেত্রে যে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতো এর ফলে তা আর পাওয়া যাবে না। এছাড়া এই ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ পেনশনপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনকার চেয়ে অন্তত কয়েক বছর বেশি কাজ করতে হবে। ফ্রান্সে অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর। অথচ যুক্তরাজ্যেই এই বয়সসীমা ৬৬ বছর।