দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৭৫ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ২১ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও ৪৩৩ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫৮৫ জনে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৫০১। মোট সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার ৩৩৪ জন।

দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ; রেকর্ড।

সোমবার (২৫ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, নতুন করে আরেকটি ল্যাব যুক্ত করা হয়েছে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৪১টি। আর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে নয় হাজার ৪৫১টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৩৪টি।

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

একইসঙ্গে ঈদের দিনও মৃত্যুর সংবাদ দিতে হচ্ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছাও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকায় ২৫টি এবং ঢাকার বাইরে ২৩টি ল্যাবে এসব পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকায় নতুন করে পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছে ল্যাবএইড হাসপাতাল।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৩৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার ৩৩৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক ৪১ শতাংশ।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ২৮৪ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫ জন। এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন চার হাজার ৬৫৩ জন।

নাসিমা বলেন, সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৬৪টি। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৬৭টি। ঢাকার ভেতরে রয়েছে সাত হাজার ২৫০টি। বাইরে রয়েছে ছয় হাজার ৩৪টি।দেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা আছে ৩৯৯টি। ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

তিনি এও বলেন, শেষ ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৩৮৪ জন। মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ৪০৩ জন। ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ১১২ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই লাখ ৬৫ হাজার ৮৬৩ জন। এরমধ্যে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার ৪৫৮ জন।