সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

আগামী ২৯ মার্চ ৭০ লাখ মানুষের এ নগরের ‘অভিভাবক’ বা মেয়র নির্বাচন করবেন ১৯ লাখ ভোটার। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে, বিএনপি ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টি সোলায়মান আলম শেঠকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কেন্দ্রিক প্রধান আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে- এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়ে তৃণমূলে যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা হলো- তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন ও অপরাপর নেতাদের সুযোগ করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আবারও মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি মূল বিবেচ্য বলে মনে করা হচ্ছে। যেমন একইভাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের পরিবর্তে দলের অপর ত্যাগী নেতা জহিরুল আলম দোভাষকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়রের প্রচেষ্টায় নগরের রাস্তাঘাট সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন, বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতে ব্যাপক সফলতা অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ হলে চট্টগ্রামের দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন হবে।

সাধারণ ভোটাররা মনে করেন-ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জয়ী না হলে নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা থেকে সহজে মুক্তি পাবেন না তারা। একইসঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও মুখ থুবড়ে পড়বে।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে চসিক নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে রাজনীতি সচেতন লোকজন অভিমত প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ, সিটি কলেজ, এমইএস কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে একসময় ছাত্রশিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট খ্যাত চট্টগ্রাম কলেজ-মহসিন কলেজেও গ্রুপিং রাজনীতি বিদ্যমান। এর ফলে কাদা ছোড়াছুড়ি, কোন্দল, হানাহানি, মারামারি লেগেই আছে।

গ্রুপ, উপগ্রুপ থেকে শুরু করে সব মনোনয়ন-প্রত্যাশীসহ আওয়ামী লীগ যদি সম্মিলিতভাবে ‘নৌকা’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ না করে তবে সুযোগ নেবে বিএনপির প্রার্থী।

বলে রাখা ভালো-সিটি করপোরেশনের মূল কাজ সড়ক মেরামত-সংস্কার, আলোকায়ন, গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বাইরে চসিক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত রেখে আসছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়। রয়েছে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুড়ি বন্ধ, জনদুর্ভোগ লাঘব, সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের গুরু দায়িত্বও। যদিও ‘সমন্বয়’ অদেখা চট্টগ্রামের মানুষের কাছে।

সে যাই হোক-আমরা লক্ষ্য করছি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে চলছে নির্বাচনী কার্যক্রম। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে তাতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নেই দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমকে আওয়ামী লীগের একাংশের মনোভাব যেন তিনি তাদেরই প্রার্থী। এই মনোভাব দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর আওয়ামী লীগের মাঝারি পর্যায়ের এক নেতা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা নিজ ঘরে পরবাসী, আমাদের কোণঠাসা করার প্রক্রিয়া চলছে’। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, তিনি যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত। কিন্তু অবিশ্বাসের দেওয়াল ভাঙ্গতে সিনিয়র নেতাদের জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।’

এদিকে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন অনেকে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে চসিকে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ কাজটি যে প্রার্থী ভালো করবেন তিনিই জয়ী হবেন।

চট্টগ্রাম বীরের দেশ। একুশের প্রথম কবিতার শহর এটি। ছয় দফা ঘোষণার শহর। একাত্তরে সোয়াত জাহাজে অস্ত্র খালাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির শহর। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এমএ হান্নানের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠের শহর এটি। অপারেশন জ্যাকপটের শহর। এ শহর মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, জহুর আহমদ চৌধুরী, এমএ আজিজ, এমএ মান্নান, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সারের।

উল্লেখিত শ্রদ্ধেয় নেতাদের ত্যাগে গড়ে ওঠা এই বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম, এখানকার সর্বস্তরের জনগণ নগরপিতা নির্বাচিত করতে আশা করি ভুল করবেন না- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।