সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

লতানো তরমুজ গাছে ছেয়ে আছে মাঠ। ফুটেছে অসংখ্য ফুল কিন্তু ফল ধরেনি। প্রায় ৫৬ বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি ছোট আকারের তরমুজ।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সদরপুর ইউনিয়নে তরমুজের ফলনের এই দুর্দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৬ জন কৃষক ।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর গ্রামের এসব কৃষক প্রায় চার মাস আগে একটি বীজ কোম্পানির ঝিনাইদহ এজেন্টের মাধ্যমে তরমুজ বীজ কেনেন। পরে তারা ৫৬ বিঘা জমিতে এসব বীজ বপন করেন। বীজ থেকে সময়মতো চারা গজিয়ে লতানো গাছে ক্ষেত ছেয়ে যায়। ফুলও ধরে। কিন্তু তরমুজ আর ধরে না। দু-একটি গাছে একটি-দুটি তরমুজ ধরলেও তা আকারে খুবই ছোট।

বীজ কোম্পানির পরামর্শমতো কৃষকেরা ঠিক সময়ে সার, কীটনাশক দিয়েও কোনো ফল পাননি। এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

পুরাতন আজমপুর এলাকার কৃষক নিয়াত আলী লালু বলেন, ‘বিঘাপ্রতি ৫ হাজার টাকায় আমি  ১২বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ওই কোম্পানির তরমুজ বীজ বপন করি। গাছে ফুল এসেছে তবে কোন ফল ধরেনি। জমিতে জৈব সার, বালাইনাশক সবই দিয়েছি। তবে কোন লাভ হচ্ছে না। গাছের গ্রোথ ভালো তবে ফল নেই। আমাদের সাথে লাগানো অন্য এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। তারা তরমুজ বাজারে বিক্রি শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোম্পানির লোকজন বলেছিল ফল না আসলে টাকা ফেরত দেবে। সেই সাথে আমরা চাষিরা গরীব মানুষ। বড় আশা করে তরমুজের চাষ করেছি। তবে এখন দেখছি সবই শেষ। অনেকেই বলছেন এটা নাকি বীজের দোষে হয়েছে।’

কৃষক বাবুল হক বলেন, ‘বিঘাপ্রতি আমরা ২২-২৫ হাজার টাকা করে খরচ করে ফেলেছি। চার মাস হয়ে গেলো। এখন পর্যন্ত ২২টা তরমুজও ধরেনি। কোম্পানির লোকজন বলেছিলো অনেক তরমুজ পাবো। গাছ ভালো হলেও নেই তরমুজ। এখন আমাদের পুরোটাই লস।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। জমিতে রোগ কিংবা পোকার আক্রমন তেমন হয়নি। গাছের গ্রোথ ভালো হয়েছে। ফুলও অনেক বেশি হয়েছে। তবে ফল আসছে না। আমরা চেষ্টা করছি ফল ধরানোর জন্য।’

কি কারণে এমনটা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ বীজ বা ভেজাল বীজের কারণে ফুল আসলেও ফল হয় না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই বীজ কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল হালিম বলেন, ‘হয়তো আবহাওয়ার কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া একই বীজ খুলনায় ভালো ফলন হয়েছে। মিরপুরে কেনো এমনটা হয়েছে আমরা খতিয়ে দেখছি।’

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বীজের গুণগত মান খারাপ হওয়ার কারণেই খেতে ফল আসেনি। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এর আগেই এ উপজেলায় বীজের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছিলো।’