অন্যদুনিয়াঃ ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং পরবর্তী লকডাউন পরিস্থিতি বিশ্বে অনেক মানুষকে কর্মহীন করেছে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, অনলাইনে যারা অর্থ উপার্জন করেন এ সময় তাদের রোজগার আরো বেশি হওয়া উচিত। বাস্তবতা হলো, তারাও এই কঠিন সময়ে সংগ্রাম করছেন।

অস্ট্রেলিয়ান এক ইনফ্লুয়েন্সার (সোশ্যাল মিডিয়া তারকা) করোনা মহামারির প্রভাবে তার করুণ অবস্থার কথা শেয়ার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তার ১ লাখের বেশি ফলোয়ার (ভক্ত বা অনুসারী) রয়েছে এবং ‘অনলি ফ্যানস’ প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজের অ্যাডাল্ট ছবি প্রদর্শন করে আয় করেন। নগ্ন ছবি দেখানোর জন্য তিনি ভক্তদের কাছ থেকে মাসে ১২.৯৯ ডলার নেন। তবে করোনার প্রভাবে বেকার ভক্তরা তাকে আর ফলো করছে না। কারণ তাদের আর সেই সামর্থ্য নেই!

ফলে বিলি বিভার নামের ২৭ বছর বয়সি এই মডেলকে ভক্ত হারিয়ে টিকটকের একটি ভিডিওতে কাঁদতে দেখা গেছে। ভিডিওটিতে কাঁদতে কাঁদতে বিলি জানিয়েছেন, লক ডাউনের এই পরিস্থিতিতে অনলি ফ্যানস অ্যাকাউন্টকে তিনি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে মনে করেছিলেন। কিন্তু ভক্ত এতোটাই কমে গেছে যে, এখান থেকে যে অর্থ উপার্জন হবে তা দিয়ে তিনি বাড়ি ভাড়াও মেটাতে পারবেন না।

ভিডিওতে দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি আরো বলেছেন, আমি এখন স্ট্রিপ ক্লাবে গিয়ে কাজ নেব, লকডাউনে সে পথও বন্ধ। করার মতো কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। আমার অন্য আর কোনো প্রতিভা নেই। আমি নাচতে পারি না, গাইতে পারি না। এখন আমার কী করা উচিত বুঝতে পারছি না।’

বিলি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে চান যাতে ভক্তরা আবার তার ফ্যানপেজ সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।

ভিডিও প্রকাশের পর অনেকে বিলির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার তার পেশা নিয়ে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েননি। অস্ট্রেলিয়ান এক রেডিও উপস্থাপক তাকে সমাজের জন্য ভালো কিছু করার পরামর্শ দিয়েছেন। আরেকজন টিভি উপস্থাপক মন্তব্য করেছেন, ‘আমি কারো দুর্ভাগ্য নিয়ে আনন্দ করতে চাই না। তবে আমি আনন্দিত আপনি উপলব্ধি করেছেন, আপনার আর কোনো প্রতিভা নেই! আর সবার মতো ভালো জীবনে ফিরে আসুন।’

মহামারির এ সময়ে গ্রোসারি শপ, ই-কমার্স, ডেলিভারিসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। অনেককে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের কাজ পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। যেমন গেম অব থ্রোনসের নাইট ওয়াচের চরিত্রের অভিনেতা মাইকেল কনড্রনকে লকডাউনের সময়ে ডেলিভারি কর্মীর কাজ করতে দেখা গেছে। অনেকে বিলিকে সেই পরামর্শও দিচ্ছেন।