কৃষি ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

সজনে ডাটা গ্রীষ্মকালীন সবজি। দেশের করোনা পরিস্থিতিতেও সান্তাহারের সজনে ডাটা ব্যবসায়ীরা বেশ ফুরফুরে। তারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও সবজিটি জেলার বাইরেও পাঠাচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বগুড়ার আদমদীঘিতে সবকিছুই স্থবির। বন্ধ হয়ে গেছে গণপরিবহন ও হাট। স্বেচ্ছায় লকডাউন অনেক পাড়া-মহল্লা। তারপরও সান্তাহার থেকে মিনি পিকআপে সজনে ডাটা যাচ্ছে কুষ্টিয়া, নাটোর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আর এ কারণে সান্তাহারে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিটির খুবই কদর। যেখানে দেশের সবকিছুই এখন বন্ধপ্রায় সেখানে কিছুটা হলেও সান্তাহারের মানুষকে বাঁচার পথ দেখাচ্ছে এই সজনে ডাটা।

গাছে গাছে সজনে ফুল আসার শুরুর দিকে আবহাওয়া তেমন একটা অনুকূলে না থাকলেও এবছর এখানে অনেকটাই ভালো হয়েছে সজনে ডাটার উৎপাদন।

কথা হয় সান্তাহারের পাইকারি সজনে ব্যবসায়ী বাবু হোসেন, বাদশা আলী ও সবুজ হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, করোনার প্রভাব সজনে ডাটায় তেমন একটা পড়েনি। এখনো সজনে ডাটার কদর অনেকটা গত বছরের মতোই রয়েছে।সান্তাহার এলাকা ঘুরে কৃষকদের কাছে থেকে প্রতিমন ২ হাজার টাকা অর্থাৎ কেজি প্রতি ৫০টাকা দরে সজনে কিনতে হচ্ছে। আর এসব সজনে কুষ্টিয়া, নাটোর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে যানবাহনের। সারাদেশে সজনে পাঠাতে এখন একমাত্র ভরসা মিনি পিকআপ। তবে ভাড়া আগের থেকে অনেকটা বেশি দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, ক্যালোরিয়াম, খনিজ লবণ ও আয়রনসহ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য সজনে ডাটাতে পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন এ,বি ও সি সমৃদ্ধ সজনে ডাটা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, সজনে ডাটা প্রধানত দুই প্রকার। এক প্রকার বছরে একবার পাওয়া যায়। আর রাইখঞ্জন জাতের সজনে ডাটা বছরে দুই থেকে তিনবার বাজারে পাওয়া যায়। সজনে গাছ তৈরি করতে চারা রোপন করতে হয় না। যে কোনো পতিত জমি, পুকুর পাড়, রাস্তার পাশ বা বাড়ির আঙ্গিনায় যে কোনো ফাঁকা জায়গায় গাছের ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে এর ডাল-পালা বেড়ে গাছ বড় হতে থাকে। এমনকি ডাল পুঁতে রাখার পর এক বছরের মধ্যেই ওই সব গাছে সজনে ডাটা ধরতে শুরু করে। বড় মাঝারি এক একটি গাছে ৫-১০ মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়।

বিনা পরিশ্রমে, বিনা খরচে অধিক লাভের আশায় অনেকেই এখন সজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলেও জানান তিনি।