বিনোদন ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

‘কেমন আছেন?’ প্রশ্ন করতেই বিষণ্ন উত্তর ‘মরিনি এখনও। বেঁচে আছি!’

বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের দাপুটে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রের সোনালি দিন ফুরিয়েছে। বয়সও এখন আর অনুকূলে নেই। বাড়ি-হাসপাতাল করেই কাটছে জীবন। নিজেই বললেন, ‘কেউ এখন আর খোঁজ নেয় না। শুধু মরার খবরটা জানতে আমাকে ফোন করে সাংবাদিক ভাইয়েরা। এখন পর্যন্ত হাজারবার মরেছি! সিনেমায় মরেছি অসংখ্যবার। কষ্ট পাইনি। কারণ ঐ মৃত্যুতে দর্শক তালি দিয়েছে। কিন্তু এখন বারবার নিজের মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত। এই খবর আমাকে কষ্ট দেয়।’

বেশ কয়েকবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। প্রতিবারই তাকে ফেসবুক লাইভে এসে জানাতে হয়েছে- তিনি বেঁচে আছেন। সুস্থ আছেন। গত বছরের এপ্রিলে হজমজনিত সমস্যার কারণে তিনি রাজধানী গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেবারও তার মৃত্যুর খবর রটেছিল। কিন্তু সব খবর মিথ্যা প্রমাণ করে হাসপাতালে টানা ৫০ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। সেই থেকে সূত্রাপুরের বাড়িতে রয়েছেন।

এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ‘মেরুদণ্ডে ব্যথার কারণে বাসা থেকে বের হতে পারি না। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা কোথায় আছে, কেমন আছে জানি না। ওরাও কোনো খোঁজ নেয় না।’

‘বাসায় সময় কাটে কীভাবে?’ প্রশ্ন করতেই বললেন, ‘সারাক্ষণ বই পড়ি। লেখালেখিও করি। একটি রুমের মধ্যেই সারাদিন কেটে যায়।’

এটিএম শামসুজ্জামান অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ৬ বার। এর মধ্যে, ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কারও রয়েছে। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এছাড়া শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন এই নন্দিত অভিনেতা। ‘অভিনয় জীবনে প্রাপ্তি অনেক। তারপরও কি কোনো অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে?’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক পাওয়ার পরও কেন জানি মনে হয় অপ্রাপ্তি রয়েছে। এতো কাজ করেছি, কিন্তু জাতির পিতাকে নিয়ে সিনেমা করা হয়নি। আমি চাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা বানাতে। আমার শেষ ইচ্ছা জাতির পিতাকে নিয়ে সিনেমা বানাবো। শুধু অর্থের যোগান পেলই তা সম্ভব।’

‘আজ ঈদ। কীভাবে কাটবে দিন?’ প্রশ্ন করতেই বেরিয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। একটু সময় নিয়ে ধীর কণ্ঠে বললেন, ‘বাসা ছাড়া কোথায় যাবো? আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই।’