সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে ২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে থেকে প্রতিদিনই প্রবাসীরা আসছেন। তাদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

সোনারদেশ২৪ প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী দেশের আট জেলায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে বিদেশফেরত ৩১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৩১৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ২৬ জন, কুলাউড়ায় ৫২ জন, জুড়ীতে ১৯ জন, বড়লেখায় ৩২ জন, শ্রীমঙ্গলে ৮১ জন, কমলগঞ্জে ৬৫ জন ও রাজনগরে ৪২ জন আছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ বলেন, এদের মধ‌্যে বেশিরভাগই বিদেশফেরত। মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক‌্যাল অফিসার ডা. রোকশানা ওয়াহিদ রাহি বলেন, ‘৩১৭ জনের মধ্যে কয়েকজন প্রবাসীদের  নিকট আত্মীয়। যারা তাদের সংস্পর্শে ছিলেন।’

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪৬ জনসহ মাট ২৯১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সাতজনের হোম কোয়ারটাইন থাকার সময়সীমা পার হওয়ায় তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ৩৯ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫৭ জনে। গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, ইতালি, চীন, সিঙ্গাপুরসহ ১২টি দেশ থেকে সম্প্রতি বাড়ি ফেরা প্রবাসীদের খোঁজ নিয়ে ১৬০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরমধ্যে তিনজনের হোম কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষে আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১৫৭ জন। এর মধ্যে দুজন স্থানীয়। বাকিরা বিদশেফেরত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ থেকে ৯ হাজার ২০৮ জন এসেছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১৭ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকরা করোনা মোকাবিলায় ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে সিনিয়র কনসালটেন্ট তাসলিমা আক্তারকে আহ্বায়ক ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা একরামুল রেজাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা : করোনাভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত সাতক্ষীরায় নতুন করে ৮২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নিয়ে এ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ১৬৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। একজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩৩ জন, কলারোয়ায় আটজন, তালা উপজেলায় ১৮ জন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৬ জন, আশাশুনি উপজেলায় ১৬ জন, শ্যামনগর উপজেলায় ৩৩ জন ও দেবহাটা উপজেলায় ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে গত পাঁচ দিনে।

নড়াইল : নড়াইলে ৭২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নড়াইলে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা এখন ৭২। এর মধ্যে লোহাগড়ায় উপজেলায় ১৪, সদরে ২১ ও কালিয়ায় ৩৭ জন।

এদিকে, করোনাভাইরাসের ব্যাপারে আতঙ্কিত না হতে ও জনসচেনতা সৃষ্টিতে গত ১৭ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাচ্ছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা।

যশোর : যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইনে  রাখা হয়েছে ৬৭ জনকে। কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মানায় মোবাইল কোর্টে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় যশোর শহরের পৌর এলাকায় এক বিদেশফেরত ব‌্যক্তিতে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, করেনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সব কার্যক্রম মনিটরিং করছে।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত  বিদেশ ফেরত ৮৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০, নলছিটি উপজেলায় ১৫, রাজাপুর উপজেলায় ২৪ ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় রয়েছে ১৬ জন। এরা ইতালি, ভারত, সৌদি আরব, লেবানন, সিঙ্গাপুর ও স্পেন থেকে দেশে ফিরেছেন।

এদিকে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে বাইরে ঘোরাফেরা করার অপরাধে বিদেশফেরত পাঁজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।