সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশনা দিলেও অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতায় এলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসতে নারাজ।

তাই ক্লাস, পরীক্ষা অনলাইনের আওতায় আনতে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসি থেকে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতায় এলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা বাস্তবায়ন করছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি নীতিমালা জারি করা হলে সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনলাইনের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। এজন্য শনিবার (১৬ মে) দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ‌্যালয়ের উপাচার্য বরাবর মেইল দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তাতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে জরিপের প্রশ্ন ঠিক করে তা পাঠানো হয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ওই প্রশ্নপত্র পূরণ করে পাঠায়নি সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং ফ্যাকাল্টি সদস্যদের তা পূরণ করে আগামী ২০ মের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, সব নীতিনির্ধারকদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও অনেকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে টালবাহানা শুরু করেছে। অনেকে ছুটির দিনে বাড়তি ক্লাস করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে, অথচ মূল সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে যাচ্ছেন। দূরশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি নীতিমালায় রূপ দেওয়া হলে তা সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, এটি হলে জরুরি প্রয়োজনে নিয়মের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

বন্ধের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এ পরিস্থিতিতে অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে শনিবার (১৬ মে) আট সদস্যের কমিটি করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয় ইউজিসি।

কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরকে এই কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই কমিটিতে সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে। ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামানকে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।