সাদমানের ফিফটির পর সাকিব-লিটনে স্বস্তি

31

ক্রীড়া ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। অপর প্রান্তে তামিম ইকবাল-নাজমুল হোসেন শান্তরা যাওয়া আসার মিছিলে থাকলেও সাদমান ছিলেন অটল। শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফেরেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি করে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। মাঝে মুশফিকুর রহিম ৩৮ ও মুমিনুল হক ২৫ রানের ইনিংসে খেলে সাজঘরে ফেরেন। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরতি টেস্টে দারুণ ব্যাটিং করেন সাকিব আল হাসান। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে ৯৫ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। সাকিব ৩৯ ও লিটন ৩৪ রানে অপরাজিত আছেন।

উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। একটি উইকেট নেন কেমার রোচ।

স্কোর: বাংলাদেশ- ৯০ ওভারে ২৪২/৫ (সাকিব ৩৯*, লিটন ৩৪*)

দুইশ পার করলো বাংলাদেশ

ক্রিজে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম সাজঘরে ফেরার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দলীয় ২০০ রান পার করে বাংলাদেশ। ৭৯.২ ওভারে কর্নওয়ালের করা বলে সাকিব আল হাসানের প্যাডে লেগে লেগ বাই থেকে ১ রান আসে। এই রান থেকেই ২০০ পূর্ণ করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়ে মুশফিকের বিদায় 

দুই সেট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামের বিদায়ের পর ক্রিজে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ ছন্দে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যানের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ১০৮ বলে ৫৯ রানের শক্ত জুটি ভেঙে দিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ফার্স্ট স্লিপে চমৎকার ক্যাচে মুশফিককে ফেরান রাকিম কর্নওয়াল। ৬৯ বলে ৬ চারে ৩৮ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

মুশফিক-সাকিবে দারুণ ছন্দে বাংলাদেশ

দুই সেট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামের বিদায়ের পর ক্রিজে নামেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। চা বিরতির আগে ৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। এরপর শেষ সেশনে নেমে এই জুটি পঞ্চাশ ছাড়ানোর পথে ছিল।

আরও দুই উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে বাংলাদেশ

মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামের দৃঢ়তায় কেটেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেশন। কিন্তু চা বিরতির আগে তাদের দুজনকেই হারালো স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তামিম ইকবালের বিদায়ের ধাক্কা লাগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। ৯ রানে ওপেনারের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে সাদমানের ৪৩ রানের জুটি ভাঙে লাঞ্চের ঠিক আগে। প্রথম সেশন তারা শেষ করে ৬৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে।

৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দ্বিতীয় সেশন শুরু করেন মুমিনুল ও সাদমান। দুজনের জুটি পঞ্চাশ ছাড়ানোর পর পর বিচ্ছিন্ন করেন জোমেল ওয়ারিকান। ৫৩ রানের জুটি গড়ার পথে সাদমান করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তার হাফসেঞ্চুরি উদযাপন দেখে বিদায় নেন মুমিনুল। ওয়ারিকানের বলে জন ক্যাম্পবেলের হাতে ধরা পড়েন স্বাগতিক অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার চা বিরতির দুই ওভার আগে আউট করেন সাদমানকেও। ৫৯ রান করে এলবিডাব্লিউর শিকার হন বাঁহাতি ওপেনার। দলীয় ১৩৪ রানে তার বিদায়ের পর ৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বিরতিতে গেছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭৪ রান।

সাদমানকে ফেরালেন ওয়ারিকান

জোমেল ওয়ারিকানের বলে চার মেরে দ্বিতীয় ফিফটি করেছিলেন সাদমান ইসলাম। ইনিংসটা আর বেশি লম্বা করতে পারেননি বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। ১৫৪ বলে ৬ চারে ৫৯ রান করে এলবিডাব্লিউ হন ওয়ারিকানের বলে। মুমিনুল হকের পর তাকেও মাঠছাড়া করলেন বাঁহাতি স্পিনার।

সাদমানের ফিফটি দেখে মুমিনুলের বিদায়

সাদমান ইসলামের ফিফটি উদযাপন দেখার কিছুক্ষণ পর বিদায় নিলেন অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। ২৬ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে শর্ট মিড উইকেটে জন ক্যাম্পবেলের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার ৯৭ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার। তৃতীয় উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়লেন মুমিনুল।

উইন্ডিজের বিপক্ষে আবারও সাদমানের ফিফটি

২০১৮ সালের নভেম্বরে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই ফিফটি উদযাপন করেছিলেন সাদমান ইসলাম। বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের দেখায় আবারও হাফসেঞ্চুরি করেছেন। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে জোমেল ওয়ারিকানকে চার মেরে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পঞ্চাশ ছুঁলেন সাদমান। ১২৮ বলে ষষ্ঠ বাউন্ডারিতে ফিফটি হলো তার। অন্য প্রান্তে ছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

বাংলাদেশের স্কোর একশ ছাড়িয়ে

৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেছিলেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। লাঞ্চের পর তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর একশ ছাড়িয়ে গেছে। ৬৬ রানে নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায়ের পর দুজন জুটি বাঁধেন।

তামিম-শান্তকে হারিয়ে ৬৯ রানে লাঞ্চে বাংলাদেশ

শুরুতেই একটা ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। কেমার রোচের কাছে মাত্র ৯ রানে বোল্ড হন তামিম ইকবাল। তিনি ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাল ধরেন সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের জুটিটা পঞ্চাশ পেরোনোর কাছে ছিল। কিন্তু হয়নি সংশয়ের কারণে। ৪৩ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন শান্ত। রান আউট হন ২৫ রান করে। এরপর ওপেনার সাদমানকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে নামেন স্বাগতিক অধিনায়ক মুমিনুল হক। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগে তারা দুজনে স্কোরবোর্ডে ৩ রান যোগ করতে পেরেছেন। ২ উইকেটে ৬৯ রান করে লাঞ্চ বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।

দ্বিধান্বিত হয়ে রান আউট শান্ত

তামিম ইকবালের বিদায়ের পর প্রথম সেশন শেষ করার পথে ছিল সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি। কিন্তু দ্বিধার কারণে ভেঙে গেলো ৪৩ রানের এই জুটি। ২৪তম ওভারে কাইল মেয়ার্সের বলে ফাইন লেগে শট খেলেন সাদমান। প্রথম রানটি ভালোভাবেই নেন দুজন, কিন্তু কেমার রোচ বল ফেরানোর আগে দ্বিতীয় রানটি নিতে দৌড় দেন সাদমান। যখন স্ট্রাইকিং প্রান্তের বেশ কাছে তিনি, তখন দ্বিধান্বিত শান্তও রানের জন্য দৌড় দেন। ততক্ষণে রোচের থ্রো থেকে উইকেটকিপার জশুয়া ডা সিলভা বল পেয়ে মেয়ার্সের দিকে পাঠান এবং তিনি স্টাম্প ভেঙে দেন শান্ত পৌঁছানোর বেশ আগেই। ৫৮ বলে ৩ চারে ২৫ রান করেন শান্ত।

তামিমকে হারিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

২৩ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর সতর্ক ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তামিম ইকবাল আউট হওয়ার পর সাদমান ইসলামের সঙ্গে ক্রিজে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রাম টেস্টে দুজনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছে স্বাগতিকরা।

রোচের বলে বোল্ড তামিম

সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে বড় সংগ্রহ আনতে ব্যর্থ হলেন তামিম ইকবাল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে কেমার রোচের কাছে বিদায় নেন তিনি। উইন্ডিজ পেসারের বল তার ব্যাট-প্যাডের মাঝখান দিয়ে গিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। ১৫ বল খেলে ৯ রান করেন তামিম। ২৩ রানে ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে আগে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চার স্পিনার, এক পেসার নিয়ে বাংলাদেশ

সবশেষ চট্টগ্রামের মাটিতে বাংলাদেশ এক পেসার ও চার স্পিনার নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। এবারও একই বোলিং আক্রমণ নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাগতিকরা। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে স্পিন বিভাগে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ একাদশ: মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার), লিটন দাশ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), জন ক্যাম্পবেল, জার্মেইন ব্ল্যাকউড, শেইন মোসলে, এনক্রুমাহ বোনার, জশুয়া ডা সিলভা (উইকেটকিপার), কাইল মেয়ার্স, রাকিম কর্নওয়াল, জোমেল ওয়ারিকান, কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

অতীত পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে হারানোর পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৬ টেস্টে বাংলাদেশের জয় চারটিতে। তবে সবশেষ সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষবার স্পিনে ফাঁদ পেতে সফরকারীদের হারিয়েছিল। চার স্পিনার দুই টেস্টে নিয়েছিলেন ৪০ উইকেট। তাইতো এবার চার স্পিনার নিয়েই নেমেছে বাংলাদেশ।

৩৪৭ দিন পর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ

সবশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেটাও ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। এরপর সাদা পোশাকে একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলেও করোনার কারণে সব ওলটপালট হয়েছিল। ৩৪৭ দিন পর বাংলাদেশ ফিরছে ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণে।

You might also like