দলীয় সরকারের আওতায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়: ফখরুল

21

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

দলীয় সরকারের আওতায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

দীর্ঘ ছয় মাস পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, এ সরকার আবার প্রমাণ করেছে যে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী এখানে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় মার্কায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করে। এতে সন্ত্রাসী কায়দায় ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয়। এতে একটা জিনিস প্রমাণ হয়েছে, দলীয় সরকারের আওতায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের ভোট সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ইলেকশন কমিশনের হিসাব মতে সেখানে শতকরা ১০ ভাগ ভোট পড়েছে। সেখানে যে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয়েছে, সেটিও বিশ্বাস যোগ্য নয়। তারপরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের ফলাফলে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এটা একটা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। সে কারণে আমরা বলতে চাই, নির্বাচনকালীন সরকার যদি পরিবর্তন না হয়, নির্বাচন কমিশন যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের আগের রাতে এবং ভোটের দিন দেখা গেছে, সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রযন্ত্র করে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা ভোট কেন্দ্রগুলো দখল করে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোটের ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে নেয়। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ভোটে কেউ ভোট দিতে যায়নি। ২০১৮ সালে তা আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই সময় তারা ১৫৪টি সংসদীয় আসন তাদের পক্ষে নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিএনপির নেতাকর্মীদের পদত্যাগের প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, তিনি তো আমাদের নেতৃত্বের পদত্যাগ চাইতে পারেন না। এ অধিকার তার নেই। আমাদের পদত্যাগ চাইতে পারেন, আমাদের দলের লোকেরা। মূল কথা হলো- আমরা তাদের (সরকারের) পদত্যাগ চেয়েছি বলেই তারা আমাদের পদত্যাগ দেখতে চান।

তিনি আরও বলেন, একটি দলের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, এক হাজার নেতাকর্মীকে খুন, ৫শ’র মতো নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, অর্থ-সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান তুহিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

You might also like