ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে লকডাউন কতটা সফল?

26

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

ডিএ হেন্ডারসন একজন স্মরণীয় ব্যক্তি। জৈবসন্ত্রাস বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ। যিনি ডিন ছিলেন বর্তমান জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের। হেন্ডারসন বিশেষভাবে পরিচিত ১৯৭০-এর দশকে গুটিবসন্ত নির্মূলের জন্য। সংক্রামক রোগ নিয়ে তার জ্ঞান অসামান্য।

শূন্য দশকের মাঝামাঝিতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য কমিউনিটি চেষ্টা করছিল মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি প্রোগ্রাম তৈরি করতে। সে সময় নাইন-ইলেভেনের হামলা জৈবসন্ত্রাস নিয়ে ভয়ও উসকে দিয়েছিল। পাশাপাশি তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পড়ছিলেন ১৯১৮ সালের মহামারী নিয়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের প্রস্তাব এল। যেমন বারবার হাত ধোয়া, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং অসুস্থদের কোয়ারেন্টিন করা। এগুলো নিয়ে কোনো বিতর্কও ছিল না। কিন্তু একটা প্রস্তাব উগ্র বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল: লকডাউন। মধ্য যুগের পর মহামারীর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটি ব্যবহূত হয়নি। যেখানে একটি ভাগে ছিলেন বিজ্ঞানীরা। যারা কিনা বুশ প্রশাসনকে বললেন মহামারী প্রতিক্রিয়া হিসেবে লকডাউন নিয়ে আসতে। কিন্তু এর অন্য পাশে ছিলেন হেন্ডারসন।

তিনজন সহকর্মীকে নিয়ে ২০০৬ সালে একটি গবেষণাপত্রে হেন্ডারসন মন্তব্য করেছিলেন, লকডাউন ভালো কিছু করার চেয়ে মন্দটাই বেশি করে। এর ফলাফল হিসেবে তিনি বলেছিলেন, কমিউনিটির সামাজিক কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটায় এবং অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে পারে ব্যাপক সমস্যা। এর বাইরে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য ছিল তা হলো এমন কোনো প্রমাণ নেই যে লকডাউন সংক্রামক ভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতিকে কমাতে পারে।

বলা বাহুল্য, হেন্ডারসন সেই বিতর্কে হেরে গিয়েছিলেন। যিনি মারা গেছেন ২০১৬ সালে। কিন্তু এখন একটা মহামারীর নয় মাসের বেশি সময় অতিক্রম করছে, পৃথিবীও যেন তার দৃষ্টিভঙ্গির কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে গরিব শিক্ষার্থীদের। এ গ্রীষ্মেই বেকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ কর্মীবাহিনী। লকডাউন কোনো জীবন বাঁচিয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নটি সেই ২০০৬ সালের মতো এখনো অনির্ণেয় রয়ে গেল।

গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিড-১৯ বিষয়ক বিশেষ দূত ড. ডেভিড নাবারো লকডাউন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক উপায় হিসেবে লকডাউনের পক্ষে বলিনি। একমাত্র তখনই লকডাউন ন্যায়সংগত হবে যখন পুনর্গঠিত হওয়ার জন্য, আরেকবার গোষ্ঠীবদ্ধ হতে, আপনার সম্পদের পুনর্ভারসাম্য ফেরাতে এবং পরিশ্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষিত করতে আপনাকে সময় কিনতে হবে। দরিদ্রতার স্তরে কী ঘটছে তা দেখেন। এটা মনে হচ্ছে আগামী বছর বৈশ্বিক দারিদ্র্য দ্বিগুণ রূপ ধারণ করবে। শিশু অপুষ্টি অন্তত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। লকডাউনের একটা ফলাফল আছে, যাকে আপনি খারিজ করতে পারবেন না। সেটি হলে গরিব মানুষ আরো বেশি গরিব হয়ে যাবে।

নাবারো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন মধ্যপন্থার সমর্থন করছে। যেটি হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে অব্যাহত রেখে ভাইরাসকে প্রশমিত করা। এজন্য সরকার ও জনগণের পক্ষ উচ্চমাত্রার সংযুক্তি দরকার। যার অর্থ হচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং করা, সংক্রমিত লোকদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের বিচ্ছিন্ন করা এবং মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিয়ে জরুরিভাবে আলাপ করা। নাবারো বলেন, যদি আমরা এগুলো সব একসঙ্গে করতে পারি, আমরা ভাইরাসের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারব।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ সেই কাজটি করছে না। এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মাস্ক পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। যা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের কাজটিকে কঠিন করে দিয়েছে।

দ্য প্রিন্ট থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

You might also like