‘প্রকৃতিকে খেয়ে উন্নয়ন করা যাবে না’

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

বর্তমান সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, এ কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এসডিজি হলো বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন একটি চুক্তি। সারা বিশ্বে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করছি, যা পৃথিবীর জন্য মারাত্মক হুমকি। এই পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য আমাদের টেকসই উন্নয়ন করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর  জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘এসডিজি অর্জনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইংরেজি দৈনিক ‘বাংলাদেশ পোস্ট’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে খেয়ে উন্নয়ন করা যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনে বড় দেশগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা তা রক্ষা করেনি। কিন্তু আমরা এই কাজ করে যাব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা হলো- কেউ না করলেও আমরা এটা একা করব। কেউ আসলে তাকে স্বাগতম। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এজন্য আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যয়ও করতে পারছি। এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিনিয়ত এখানে বাড়তি সম্পদ ব্যয় করব।

‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নের কাজ নিয়মিত ট্রেকিং করছি আমরা। পদ্মা সেতুর মতো বলতে চাই, কেউ আসলেও এটা আমরা করব, না আসলেও এটা করব,’ যোগ করেন তিনি।

সেমিনারে উপস্থিত দর্শক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার কোথায় কী কাজ করছে, কীভাবে ব্যয় করছে, আপনারা তার খোঁজ নিন। আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন।

সেমিনারে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিশ্লেষক মুহাম্মদ জমির বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সমান সুযোগ পেতে হবে। সোশ‌্যাল মিডিয়ার কারণে আমাদের পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটাকে আরো বেশি দৃঢ় করতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার। অন্যথায়, এসডিজি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, এমডিজিতে আমাদের অভূতপূর্ব সাফল্যের শক্তি নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসডিজিতে যে ১৬৯টি টার্গেট রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

‘আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়লেও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমেনি। এই বৈষম্য কমাতে না পারলে এসডিজি বাস্তবায়ন হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই বৈষম্য কমানোর কথা বলেছিলেন। আমাদের নারী-পুরুষ ও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্য রয়েছে সেগুলো কমাতে হবে। সমাজে অরাজকতা বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে শুধু নুসরাত হত‌্যাকাণ্ড নয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব। না হলে এসডিজি বাস্তবায়ন করা যাবে না। আমি মানবাধিকার কমিশনের কাজ করতে গিয়ে সরকারের কাছ থেকে বাধা পাইনি। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পাইনি। এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে,’ বলেন তিনি।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তাতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তা না হলে এই অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন ‘নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আমরা হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের মূল ধারায় নিতে পারছি না। এসডিজি বাস্তবায়নে এ কাজটি করা খুবই জরুরি।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দীন।