পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ 

মাঠ পর্যায়ের পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে। গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন নামতে রোববার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

বেতন-বৈষম্য নিরসন ও গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাচ্ছেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’। এই পরিষদের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানাতে রোববার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে আগামী ১৪ অক্টোবর সারাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। পরদিন ১৫ অক্টোবর পালন করা হবে দুইঘণ্টার কর্মবিরতি। তার পরের দিন ১৬ অক্টোবর এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাবেন তারা। এরপরও দাবি আদায় না হলে ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যোগদানের সময় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ টাকা বেতন পান। অথচ অন্যান্য সরকারি বিভাগে আমাদের চাইতে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওপরের গ্রেড ও বেতন বেশি পাচ্ছেন। একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেই স্কেলেরও এক গ্রেড নিচে চাকরি শেষ করে থাকেন, যা সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সরকারি পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদাসহ ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে আমরা আবারও আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সারাদেশের সকল শিক্ষকরা এক হয়ে ১৪টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এ সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য নিরসনের আন্দোলন শুরু করা হবে।’

এ সময় জেলা উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় আমরা শিক্ষকদের জড়ো করে থাকি। এ পর্যন্ত সকল আন্দোলনে বড় ভুমিকা রাখলেও সংগঠনে আমাদের কোনো পদে রাখা হয়নি। অযোগ্যদের বড় পদে বসানো হয়েছে। ‘আমরা এটি মানি না’, ‘জুড়ে বসা নেতাদের অধীনে কোনো আন্দোলনে যেতে চাই’ না বলে বিক্ষোভ শরু করেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বারবার শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও প্রতিবাদের আওয়াজ আরও বাড়তে থাকে। এ পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কেউ কেউ আসন ছেড়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ সময় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘আমাদের পদ-পদবি নিয়ে আন্দোলন নয়, গ্রেড বৈষম্যের নিরসনের একদফা দাবি নিয়ে মাঠে নামতে চাই। মাঠ পর্যায়ে কেউ কেউ নিজেদের মতো কমিটি গঠন করে এসব দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন। এসব সমস্যা উপজেলা পর্যায়ে নিরসন করতে হবে।’

তিনি বলেন, আমরা ১৪টি সংগঠন মিলে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করলেও সেখানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, আর আপনারা একই উপজেলা থেকে পদ নিয়ে শৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

পরে হট্টগোলের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, ইউ এস খালেদা, আব্দুল খালেক, আব্দুল হক, শিবাজী বিশ্বাস, রোজেল সাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।