চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে

হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ির ভবিষ্যৎ। বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারকরা চরম আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, রপ্তানি বন্ধের কারণে আগামী অর্থ বছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি গত অর্থ বছরে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছিল- সেটি অর্জন করাই এখন কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা ।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) জানায়, গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় বর্তমানে বিভিন্ন কারখানাগুলোতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার চিংড়ি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া, প্রতিদিন কারখানাগুলোতে এই মজুদের হার বাড়ছে।

বিএফএফইএ আরো জানায়, গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৯০টি অর্ডার (এলসি) বাতিল হয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। গত ছয়দিনে এই অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

বিএফএফইএ’র সাবেক পরিচালক এস. হুমায়ুন কবীর জানান, গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প খুব ধসের মধ্যে ছিল। বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির ৮৫ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপে। কিন্তু ইউরোপের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ।

দেশের চিংড়ি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে রপ্তানিকারকদের আগামী দুই বছর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের ৩০ শতাংশ জিরো পারসেন্ট সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কারখানাগুলোর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ৫০ শতাংশ মওকুফ, রপ্তানিতে আর্থিক প্রণোদনা ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করাসহ আপদকালীন এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা দরকার।

বাংলাদেশ সি ফুড এক্সপোর্ট বায়ার এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ জানান, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতঙ্কে বায়াররা ভীষণভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আমাদের এখান থেকে কোনো শিপমেন্ট হচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে রপ্তানিকারকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরাও সে রকম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।