কার্গো খালাস দ্রুত করার প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ হচ্ছে

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে পণ্য পরিবহনকারী কার্গো খালাস ত্বরান্বিত করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

এবিষয়ে সেবা নিতে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়,‘বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্টের’ একটি প্যাকেজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে । ভারতের কলকাতা ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটার কুপারস লিমিটেড এই প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে,‘ অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্টে-ওয়ান(বিআরসিপি-ওয়ান): ইম্পিলিমেনটেশন অব ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো অ্যান্ড স্ট্রেন্দেনিং কাস্টমস মডার্নাইজেশন কনসালটেন্সি’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-এনবিআর-এসডিওয়ানঃ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স(পিএমকিউএ) কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’র জন্য এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে,‘আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্যিক ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় দ্রুততম করার মাধ্যমে পণ্য পরিবহনকারী কার্গো খালাস ত্বরান্তিত করা। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছতা ও দ্বৈত কাজসমূহ দূরীকরণের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করে তোলা। প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে আমদানি, রপ্তানি ও ট্রানজিট সম্পর্কিত আবেদনপত্র, সার্টিফিকেট, লাইসেন্স এবং পারমিশন প্রভৃতি অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ, প্রেরণ ও প্রক্রিয়াকরণ করারই ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।’

এতে বলা হয়েছে, এটা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয়।পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস আধুনিকায়নের বিভিন্ন ধাপ যথা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, সলিউশনের নকশা প্রণয়ন এবং ক্রয়, বাস্তবায়ন, অবকাঠামো স্থাপন, উন্নয়ন গ্রহণযোগ্যতা যাচাই, রুল আউট ইত্যাদি বিষয়ে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের শাসন এবং অপারেশনাল মডেল সংজ্ঞায়িত করার কাজটিও করা হবে।

প্রকল্পটিতে পরামর্শক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালে ২ ডিসেম্বর দেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় আগ্রহ ব্যক্তকরণের অনুরোধ সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সকল প্রস্তাব বিস্তারিত বিবেচনা করে, প্রস্তাবদাতাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ ব্যক্তকরণের অনুরোধ মূল্যায়ন করে ৫ টি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রস্তুত করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তিনটি ভারতীয়, একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একটি বাংলাদেশের। এগুলো হলো, ভারতের কলকাতার প্রাইসহাউস কুপারস ও ডিলোট্টি টাচ থমসো ইন্ডিয়া, কলকাতা, নিউ দিল্লির আরনেস্ট অ্যান্ড ইয়াং, আমেরিকার আইওএস পাটনারস এবং ঢাকার কাওরানবাজারের সিনথেসিস-গাইন্ডি ২০০০ জেভি।   বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকেও এই তালিকার বিষয়ে অনাপত্তি প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তীতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি কলকাতার প্রাইসহাউস কুপারসকে সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৩১ স্কোর প্রদান করে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকেও অনাপত্তি দেয়া হয়। এই সেবা ক্রয়ের জন্য ডিপিপি সংস্থান এবং প্রাক্কলিত মূল্য ধরা রয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ২১ হাজার টাকা। প্রাইসহাউস কুপারসের সর্বশেষ আর্থিক প্রস্তাব অনুযায়ী ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ আলোচ্য ক্রয়ে সর্বমোট মূল্য ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিনভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকায় মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।