শিরোনাম:

বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানালো ভারত

রাশিয়া আনল করোনার সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ‘কার্যকর’ টিকা

নাটোরে ১৯৯ অসচ্ছল সাংস্কৃতিক কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

করোনায় মারা গেলেন অভিনেত্রী অভিলাষা পাতিল

১৫ মে বাজারে আসছে রাজশাহীর আম

মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের লাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : এপ্রিল ২৩, ২০২১

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

তিনি অসুর বিনাশী দুর্গা নন। এরপরও তার পায়ের নিচে সন্তানের লাশ। সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর বনে যাওয়া মায়ের এই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই একটি ছবি পুরো ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার আংশিক চিত্র তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারনাসী শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে। ক্লান্ত-বিধ্বস্ত চন্দ্রকলা সিং বসে আছেন একটি ইলেকট্রিক রিকশায়। আর তার পায়ের নিচে পড়ে আছে ২৯ বছরের ছেলে বিনিত সিংয়ের লাশ।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার সকালে চন্দ্রকলা সিং তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে।

বিনিতের চাচা জয় সিং বিবিসি হিন্দিকে বলেন, তার ভাইপোর কিডনির সমস্যা ছিল এবং বেশ কয়েকবার তাকে বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সোমবার ডাক্তার দেখানোর জন্য এক  সপ্তাহ আগে তার নাম লেখানো হয়েছিল। কিন্তু যখন মা ও ছেলে হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছালো তখন তাদের  জানানো হলো ডাক্তার সেখানে নেই। তাদেরকে ট্রমা সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু ট্রমা সেন্টারের প্রবেশমুখে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায় বিনিত। হাসপাতালের কর্মীরা জানায়, বিনিতের করোনা হয়েছে এবং তাকে ভর্তি নেওয়া যাবে না।

চন্দ্রকলা সিং বলেন, ‘ওরা বললো এর করোনা হয়েছে। তাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমার সন্তান, আমার বাছা শ্বাস নিতে পারছিল না। আমরা অক্সিজেন আর অ্যাম্বুলেন্স ভিক্ষা চাইলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না।’

এরপর চন্দ্রকলা সিং তার ছেলেকে একটি ইলেকট্রনিক রিকশায় করে পাশের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তারাও ফিরিয়ে দেয়। তৃতীয় হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যায় বিনিত। তার মৃতদেহ পড়েছিল মায়ের পায়ের তলায়।

রিকশাতেই শোকে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন চন্দ্রকলা। ছেলের মৃত্যুতে যখন তিনি বিপর্যস্ত তখন তার কাছ থেকে চুরি হয়ে যায় বিনিতের মেডিকেল রেকর্ড ও ফোন।

ছবিটি প্রথম প্রকাশ হয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরনে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত